জন্মদিনে মায়ের উপহার দেওয়া বন্দুক দিয়ে ৪ জনকে হত্যা করল কিশোর

আপলোড সময় : ২২-১০-২০২৬ ১০:১৮:৪৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-১০-২০২৬ ১০:১৮:৪৫ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুলি চালিয়ে তিন শিশু ও এক শিক্ষককে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ১৬ বছর বয়সী অভিযুক্ত হামলাকারী গ্রিফিন জে. জন দ্বিতীয়কে তার মা জন্মদিনের উপহার হিসেবে বন্দুকটি দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। হামলার উদ্দেশ্য এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীর মা শনটাই নিকারসন ২০২৬ সালের আগস্টে আইন মেনে একটি ‘ম্যাভেরিক ৮৮’ মডেলের ১২-গেজ পাম্প-অ্যাকশন শটগান কেনেন। পরে বিনোদনমূলক ব্যবহারের জন্য তিনি সেটি ছেলে গ্রিফিনকে জন্মদিনের উপহার হিসেবে দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

গত বৃহস্পতিবার ওরেগনের বেন্ড শহরের সিলভার রেইল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালায় ওই কিশোর। একসময় সে এই বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে প্রবেশের আগে গ্রিফিন একটি চলন্ত পিকআপ ট্রাক লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ওই গাড়ির চালকই প্রথম জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।

এরপর বিদ্যালয়ের তালাবদ্ধ কাচের দরজায় গুলি চালিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে হামলাকারী। ঢোকার পর বাঁ পাশের প্রথম শ্রেণিকক্ষে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় সে। এতে তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত হন। আহত হন আরও দুজন।

নিহত তিন শিশুর একজন পাঁচ বছর বয়সী রোয়াম সামার। অন্য দুই শিশুর বয়স ছিল ৮ ও ১১ বছর। এ ঘটনায় প্রাণ হারান ২৫ বছর বয়সী শিক্ষক মেগান ল্যামবার্টও।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় সাত বছর বয়সী এক ছাত্রী এবং ৫৪ বছর বয়সী আরেক শিক্ষক আহত হয়েছেন। হামলার সময় শ্রেণিকক্ষটিতে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক ও পাঁচ শিশুসহ মোট নয়জন ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের ভেতরে এক শিক্ষক হামলাকারীর কাছ থেকে অস্ত্রটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় দুই শিক্ষার্থীর বাবা জিয়ামাঙ্কো সেখানে প্রবেশ করেন এবং গুলি চালিয়ে হামলাকারীকে হত্যা করেন।

এদিকে, হামলায় নিহত এক শিশুর শোকাহত অভিভাবকেরা ইতিমধ্যে আইনজীবী নিয়োগ করেছেন। তাঁরা বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাবিধি, হামলা প্রতিরোধে নেওয়া ব্যবস্থা এবং হামলাকারী কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্রটি পেয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে চান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের এ ঘটনায় কোনো আইনগত দায় রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন কৌঁসুলিরা। তদন্তকারীরা হামলার উদ্দেশ্য, অস্ত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০