টাইগার শ্রফের পাশাপাশি নজরদারিতে ছিলেন সালমান, আমির ও রণবীর: পুলিশ

আপলোড সময় : ২২-১০-২০২৬ ১০:৪৫:৩৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-১০-২০২৬ ১০:৪৫:৩৬ পূর্বাহ্ন

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এতে এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ভাড়া করা শুটাররা টাইগার শ্রফ ছাড়াও বলিউডের আরও কয়েকজন তারকার বাসভবনে নজরদারি চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সালমান খানের বান্দ্রার বাসভবনের পাশাপাশি আমির খান ও রণবীর কাপুরের বাড়িও নজরদারিতে রেখেছিল অভিযুক্তরা। গ্রেপ্তার হওয়া দুই শুটার ফুল সিং ও রেহান আনসারি এবং তাদের সহযোগী হৃতিক কুমার ওরফে রোশন রামুকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, টাইগার শ্রফ শুরুতে হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিলেন না। তবে তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা তুলনামূলক দুর্বল মনে হওয়ায় তাঁকে সহজ লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। অন্য তারকাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কারণ হিসেবে তাঁদের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা জানিয়েছে অভিযুক্তরা।

হামলার আগে এক মাস মুম্বাইয়ে অবস্থান

পুলিশ জানায়, হরিয়ানার সোনিপত জেলার বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী দুই অভিযুক্ত ফুল সিং ও রেহান আনসারি গত ১৮ অক্টোবর জুহুতে গুলিবর্ষণের ঘটনার আগে প্রায় এক মাস মুম্বাইয়ে অবস্থান করেছিল। এ সময় তারা দাদরের বিভিন্ন লজে থেকেছে এবং প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ করেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। হামলায় ব্যবহৃত বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল কেনার খরচও এর মধ্যে ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ে অভিযুক্তরা সালমান খান, আমির খান ও রণবীর কাপুরের বাসভবন পর্যবেক্ষণ করে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে, ১১ অক্টোবর, তারা জুহুর ওই ফুটবল মাঠেও গিয়েছিল, যেখানে টাইগার শ্রফ নিয়মিত খেলতে যান। সে সময় তাদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না বলে পুলিশকে জানিয়েছে অভিযুক্তরা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগের দিন ১৭ অক্টোবর অভিযুক্তরা পিস্তল হাতে পায়। পরে একটি জঙ্গলঘেরা এলাকায় গিয়ে গুলি চালানোর অনুশীলন করে। এ সময় একটি পিস্তল আটকে গেলে তারা অস্ত্রগুলো নিজেদের থাকার জায়গায় নিয়ে আসে। অস্ত্রটি ঠিক করার চেষ্টা করার সময় অসাবধানতাবশত গুলি বেরিয়ে যায় বলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। তবে এসব তথ্য যাচাই করে দেখছে পুলিশ।

অস্ত্র সরবরাহ ও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার

বুধবার (২১ অক্টোবর) পর্যন্ত এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুই অভিযুক্ত শুটার ও তাদের এক সহযোগী রয়েছেন।

হামলার পর দিল্লিগামী একটি ট্রেন থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। পরে বুধবার তাঁদের মুম্বাইয়ে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে হামলায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন তখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, শুটারদের অস্ত্র সরবরাহ ও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন কুনাল সঞ্জয় (২১), সুমিত সোরালিয়া (১৯), রাধা ভার্মা (২৩) ও ববিতা রাও (২৩)। দিল্লি ও হরিয়ানার সোনিপতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর বুধবার হরিয়ানার সোনিপত থেকে সমীর, যতীন ও অঙ্কিত নামের আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, সমীর এ ঘটনায় সহ-ষড়যন্ত্রকারী। তিনি গুলিবর্ষণের মূল পরিকল্পনাকারী এবং বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অপারেটর হিসেবে পরিচিত অনিল পণ্ডিতের সংস্পর্শে ছিলেন।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যতীন কুনালের সঙ্গে অমৃতসরে গিয়ে হামলায় ব্যবহৃত পিস্তল সংগ্রহ করেন। পরে রাধা ও ববিতা অস্ত্রগুলো মুম্বাইয়ে নিয়ে গিয়ে শুটারদের হাতে তুলে দেন। যতীন শুটারদের সঙ্গে মুম্বাইয়ে গিয়ে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করেন এবং অর্থও দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, অঙ্কিত তাঁদের যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে হামলার পরিকল্পনা, অস্ত্র সংগ্রহ এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০