জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ

আপলোড সময় : ২২-১০-২০২৬ ১২:২০:৪৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-১০-২০২৬ ১২:২০:৪৩ অপরাহ্ন

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ। সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

সড়ক নিরাপত্তাকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, পরিবহণ মালিক-শ্রমিক সংগঠন, চালক, পথচারী ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মানুষের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা, নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ পেশাদার গাড়িচালকদের স্বাস্থ্য ও চক্ষু পরীক্ষা, মাদক পরীক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা, সড়কের সাইন-সিগন্যাল ও রোড মার্কিং সংস্কার এবং দক্ষতার ভিত্তিতে পেশাদার চালকদের পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা ও ম্যারাথন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তায় পাঁচটি স্তম্ভ

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ পদ্ধতির পাঁচটি স্তম্ভ হলো নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ গতি, নিরাপদ সড়ক ব্যবহারকারী এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জাতীয় মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে ১৪০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কে নিরাপত্তা উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং প্রায় ৬০০ কিলোমিটার মহাসড়কে বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, পেশাদার মোটরযানচালকদের দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চালকদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে যানবাহন চালানোর প্রবণতা কমানো এ প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য।

দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসায় গুরুত্ব

দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতে ৪০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স ও ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এসব যান ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়া মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও যান চলাচল পর্যবেক্ষণে সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং দুর্ঘটনা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ রয়েছে।

আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা

সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন এবং একটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামোর মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, নীতিগত দিকনির্দেশনা এবং কার্যক্রমের তদারকি জোরদার করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের নির্দেশনা কার্যকর করা এবং যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে স্পিড ম্যানেজমেন্ট ম্যানুয়াল প্রণয়নের উদ্যোগও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীর হেলমেট ব্যবহার, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং ট্রাফিক আইন অনুসরণের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু দিবস পালন নয়, বছরজুড়ে কার্যক্রমের তাগিদ

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। চালকের বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, অদক্ষতা, যানবাহনের ত্রুটি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং পথচারীদের অসচেতনতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি সড়কের নকশাগত ত্রুটি, পর্যাপ্ত সাইন-সিগন্যালের অভাব, ফুটপাত দখল এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও নিরাপদ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।

এ পরিস্থিতিতে নিয়মিত তদারকি, আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি। চালকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সড়ক নিরাপত্তাকে কেবল একটি দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সারা বছর সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চিহ্নিতকরণ এবং গৃহীত পদক্ষেপের ফলাফল মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকার, পরিবহণ মালিক-শ্রমিক, চালক, যাত্রী ও পথচারী—সবার দায়িত্ব। চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, যাত্রীদের চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা থেকে বিরত থাকা, মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী উভয়ের হেলমেট ব্যবহার এবং পথচারীদের নির্ধারিত স্থান দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের প্রত্যাশা, সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর আইন প্রয়োগ, উন্নত সড়ক অবকাঠামো এবং জনসচেতনতার মাধ্যমে এমন একটি সড়কব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যেখানে মানুষের নিরাপদে চলাচলের অধিকার নিশ্চিত হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি রোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনও জোরদার করতে হবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০