‘কাশ্মীরিদের রক্ষা করছে পাকিস্তান’, ফারুকের এমন মন্তব্যকে দেশদ্রোহ বলছে বিজেপি

আপলোড সময় : ২৫-১০-২০২৬ ০৭:০১:৫৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-১০-২০২৬ ০৭:০১:৫৪ অপরাহ্ন

কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহ। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার কাশ্মীর সমস্যার কথা তুলে ধরে পাকিস্তান উপত্যকার মানুষের বিষয়টি সামনে আনছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের সমস্যা ও অধিকার নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

ফারুকের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তাঁর বক্তব্যকে দেশবিরোধী আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লায় দলের এক কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় পাকিস্তানের প্রসঙ্গ তোলেন ফারুক আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশটি বারবার কাশ্মীর সমস্যার কথা বলছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয়নি বলে তুলে ধরছেন।

ফারুকের বক্তব্য, এভাবে পাকিস্তান কাশ্মীরের মানুষের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিসরে সামনে আনছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, উপত্যকার মানুষের সমস্যা সমাধানে দিল্লি যথাযথ উদ্যোগ নিচ্ছে না। জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ কেন্দ্রের কাছ থেকে ন্যায়বিচার পাবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি।

নিজেদের অধিকার ও পরিচয় রক্ষায় মানুষকে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর সতর্কবার্তা, অধিকার রক্ষায় লড়াই না করলে একসময় মানুষের স্বতন্ত্র পরিচয় হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফারুকের মন্তব্যে বিজেপির ক্ষোভ

ফারুক আবদুল্লাহর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতারা। জম্মু ও কাশ্মীরে দলটির সভাপতি সত শর্মা তাঁর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ নিয়েই ফারুক এ ধরনের মন্তব্য করতে পারছেন।

সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সত শর্মা বলেন, পাকিস্তানে এ ধরনের মন্তব্য করলে ফারুক আবদুল্লাহ হয়তো একই ধরনের স্বাধীনতা পেতেন না। এ সময় তিনি ফারুককে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শও দেন। বিজেপির নেতারা তাঁর বক্তব্যকে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান হিসেবে তুলে ধরে দেশদ্রোহের অভিযোগও তুলেছেন।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা বিনোদ বনসলও ফারুকের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কাশ্মীরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকা রয়েছে—এমন ধারণার বিরোধিতা করেন তিনি। বনসলের দাবি, ভারতের শক্তি ও নিরাপত্তাব্যবস্থাই এই অঞ্চলের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে।

কাশ্মীরের মানুষের অধিকার, পরিচয় ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। ফারুক আবদুল্লাহর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সেই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। একদিকে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে উপত্যকার মানুষের সমস্যা উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলেছেন, অন্যদিকে বিজেপি তাঁর বক্তব্যকে পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। এ নিয়ে দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কাশ্মীর ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০