বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে গুম করার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও তিন মাস সময় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
মামলার দুই আসামি হলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফ।
শুনানির সময় সাইফুর রহমান ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালি শুনানিতে যুক্ত করা হয়।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে আরও তিন মাস সময় চেয়ে আবেদন করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২৫ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
শুনানিতে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, তাসমিরুল ইসলাম ও শাইখ মাহদীসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট এ মামলায় সাইফুর রহমানের জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রোববার দিন ধার্য ছিল। এর আগে ৯ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অন্যদিকে, জিয়াউল আহসানকে আগেই এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, তদন্তে জিয়াউল আহসান ও সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনা ছাড়াও আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী। এরপর থেকে তাঁদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।