‘আসামের বাঙালি মুসলমানদের লড়াই মূলত বাংলাদেশের লড়াই’

আপলোড সময় : ২৬-১০-২০২৬ ১১:০৫:৪২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-১০-২০২৬ ১১:০৫:৪২ পূর্বাহ্ন

আসামের বাঙালি মুসলমানদের অধিকার ও অস্তিত্বের লড়াইকে বাংলাদেশের লড়াই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। আসামের নগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় বাংলাভাষী মুসলমানদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, এসব উচ্ছেদ শুধু কিছু পরিবারের ওপর আঘাত নয়; বরং ওই অঞ্চলে বাঙালি মুসলমানদের ঐতিহাসিক উপস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব মুছে ফেলার প্রচেষ্টা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। পোস্টে তিনি আসামের উচ্ছেদ অভিযান, নাগরিকত্ব, ভাষাগত পরিচয় এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পোস্টের বক্তব্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, প্রায় একশ বছর আগে আসামের নগাঁওয়ে বাঙালি মুসলমান কৃষকদের বসবাসের এলাকা নির্ধারণে ‘লাইন’ টানা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এক শতাব্দী পর একই অঞ্চলে আবার উচ্ছেদ অভিযান চলছে। শাসক ও ভাষা বদলালেও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু একই রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্টে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর দুই দিনে আসামে বাংলাভাষী মুসলমানদের ১ হাজার ১০০টির বেশি বাড়িঘর এবং ১০টির বেশি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ৩৩টি উচ্ছেদ অভিযানে ২২ হাজারের বেশি পরিবার গৃহহীন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসব অভিযানে একই সম্প্রদায় বারবার কেন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন এনসিপির আহ্বায়ক।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার রাজনীতি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিজেপি ঐতিহাসিক ‘অসমীয়া বনাম বাঙালি’ পরিচয়ভিত্তিক বিরোধকে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের কাঠামোয় নিয়ে এসেছে। তাঁর দাবি, এর ফলে বাংলাভাষী মুসলমানরা উচ্ছেদ, নাগরিকত্বসংক্রান্ত জটিলতা ও প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, উচ্ছেদের পর বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছে এবং নাগরিকত্বসংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে বাংলাভাষী মুসলমানেরা বৈষম্যের মুখে পড়ছেন। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি), নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং সীমান্ত দিয়ে মানুষকে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগও তাঁর পোস্টে উঠে এসেছে।

আসামের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম করিমগঞ্জ ও সিলেটের ইতিহাস, বরাক উপত্যকার বাংলা ভাষা আন্দোলন এবং শিলচর রেলস্টেশনে ১৯৬১ সালের ১৯ মে পুলিশের গুলিতে ১১ জনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বাঙালি হিন্দু ও মুসলমানের যৌথ উত্তরাধিকার।

ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বাঙালি মুসলমানদের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁদের একটি অংশ টিকে থাকার জন্য অসমীয়া ভাষা ও পরিচয় গ্রহণ করলেও আজও তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বাঙালি পরিচয় ও মুসলিম পরিচয়—দুই দিক থেকেই এই জনগোষ্ঠী চাপের মুখে রয়েছে।

পোস্টে মওলানা ভাসানীর আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আসামের চরাঞ্চলের কৃষক ও বাঙালি মুসলমানদের অধিকার রক্ষায় ভাসানীর আন্দোলন ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিল। ‘লাইন প্রথা’ ও ‘বাঙাল খেদাও’ রাজনীতির বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রামকে ওই অঞ্চলে বাঙালি মুসলমানদের নাগরিক মর্যাদা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, নগাঁও ও চরাঞ্চলে চলমান উচ্ছেদ অভিযান কিছু পরিবারের ঘরবাড়ি ভাঙার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে বাঙালি মুসলমানদের ঐতিহাসিক উপস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তাঁর মতে, আসামের বাঙালি মুসলমানদের আইনি মর্যাদা ভারতের সংবিধানের আওতায় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, সীমান্তে বিজিবির পাহারা এবং ভারতকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি উচ্ছেদ ও সীমান্ত দিয়ে মানুষ ঠেলে পাঠানোর অভিযোগের বিষয়ে আরও স্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিএনপি সরকারের একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাষ্ট্রহীনতার ঝুঁকি তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে আসামের পরিস্থিতির প্রভাব যেন বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তাঁর মতে, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা তৈরি হলে তা আসামের বাঙালি মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, আসামের বাঙালি মুসলমানদের ইতিহাস ও অধিকারসংগ্রামকে ধারণ করে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০