ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। রোববার মিশিগানে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ছিল ৪ দশমিক ৮৩ ডলার, যুদ্ধ শুরুর আগে যা ছিল ২ দশমিক ৯১ ডলার। যুদ্ধের জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এর মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ থেকে তাঁর দেশ লাভবান হচ্ছে।
ট্রাম্প শুরুতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহ চলবে। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও এর অবসানের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। রোববার ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ নিয়ে তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই। তিনি বলেন, “সিদ্ধান্তটা আমি নিয়েছি। আমি দ্বিতীয়বার ভাবছি না।”
ট্রাম্পের ধারণা ছিল, যুদ্ধের কারণে পেট্রলের দাম আরও অনেক বাড়বে। ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেন। তাঁর ভাষ্য, “সন্ত্রাসের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র নিঃসন্দেহে ইরান। আমাদের নিশ্চিত করতে হয়েছিল, তারা যেন পরমাণু অস্ত্র না পায়।”
তবে ইরান বলে আসছে, তাদের পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো লক্ষ্য নেই। দেশটির দীর্ঘদিনের বক্তব্য, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কর্মসূচি বেসামরিক জ্বালানির প্রয়োজনে পরিচালিত হচ্ছে। যুদ্ধের আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির পরমাণু কর্মসূচি ‘ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে’।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো বিপুল মুনাফা করছে। সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের চাহিদা বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটেছে, তার কারণে আমাদের দেশ শত শত কোটি ডলার কামাচ্ছে। কারণ তারা আসছে টেক্সাসে, ওকলাহোমায়, লুইজিয়ানায়। সেখান থেকে তেল নিচ্ছে। তারা শত শত কোটি ডলার কামাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, তাঁর উপদেষ্টারা তাঁকে এ বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করেছিলেন। কারণ, জ্বালানির জন্য সাধারণ মানুষকে এখন ‘একটু বেশি’ দাম দিতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আমি এখনই দেখতে পাচ্ছি ভুয়া শিরোনামটা: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব টাকার কথা বলছেন, আর মানুষ পাম্পে কষ্ট পাচ্ছে। এটাই হবে শিরোনাম। আমি বললাম, আমি পরোয়া করি না। আমি বলবই। আমরা বিশাল সম্পদ কামাচ্ছি।”