জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে

আপলোড সময় : ০৪-০৮-২০২৬ ১০:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-০৮-২০২৬ ১০:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন ছিল জনগণের আন্দোলন এবং জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের কারণেই সেটি সফল হয়েছে। তিনি বলেন, এ আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়; বরং দেশের সর্বস্তরের জনগণের।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-এ আয়োজিত ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টে যে আন্দোলন হয়েছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ জনগণের আন্দোলন। জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই এই আন্দোলন সফল হয়েছে। জনগণ যখন সম্পূর্ণভাবে এ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে, তখনই আন্দোলন সফল হয়েছে।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই আন্দোলনের সফলতার পুরো কৃতিত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। এটি কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের অর্জন নয়। গত ১৭ বছর ধরে বিএনপিসহ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে ছিল এবং কখনো জনগণকে একা রেখে মাঠ ছাড়েনি।”

দেশ পুনর্গঠনে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আন্দোলন ও সংগ্রামের সময় শেষ, এখন দেশ পুনর্গঠনের সময়। ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ধৈর্যের সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে।

সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপিই প্রথম রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রস্তাব সামনে আনে, যা পরবর্তীতে ৩১ দফায় রূপ নেয়। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে প্রতিবছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে এবং ব্যাংকিং, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে অধিকাংশ জেলায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা এবং জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু করা হবে। পাশাপাশি আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়েও ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের বাস্তবতা স্বীকার করে তিনি বলেন, সরকার অজুহাত দিয়ে দায়িত্ব এড়াতে চায় না। সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে নিরন্তর কাজ করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে জ্বালানি খাত ব্যাপক লুটপাটের শিকার হয়েছে, ফলে সেই খাত পুনর্গঠনে সময় লাগবে।

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে মালয়েশিয়াও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং বিভাজিত প্রশাসনিক কাঠামো পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ধাপে ধাপে রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনে জনগণ এ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তাই এটি এখন শুধু বিএনপির নয়, বরং জনগণের ৩১ দফা। এর মূল লক্ষ্য জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রাষ্ট্র পুনর্গঠন।

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০