চাকরির ইন্টারভিউ বা ভাইভা একজন প্রার্থীর জন্য চাকরি পাওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন চাকরিতে লিখিত বা প্রাথমিক ধাপ পেরিয়ে প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। এ পর্যায়ে নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ থাকে।
চাকরির ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতে সহায়তার জন্য অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ‘Bring Your Brain to Work’ বইয়ের লেখক আর্ট মার্কম্যান এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্যারিয়ার কৌশলবিদ ও ‘How to Get a Job You Love’ বইয়ের লেখক জন লিস বিভিন্ন সাধারণ প্রশ্নের কথা উল্লেখ করেছেন।
ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতির জন্য বহুল ব্যবহৃত ৩৮টি প্রশ্ন হলো—
১. আপনার নিজের সম্পর্কে বলুন।
২. কাজের প্রথম ৯০ দিনের মধ্যে আমরা আপনার কাছ থেকে কী আশা করতে পারি?
৩. আপনার সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী গুণ কী?
৪. কেন আমাদের আপনাকে নিয়োগ করা উচিত?
৫. কাজের ক্ষেত্রে আপনি কী ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে পারবেন?
৬. আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে আপনি কোম্পানির কতটা উন্নতি করতে পারবেন?
৭. আপনি কি টিমের সঙ্গে কাজ করতে পারেন?
৮. এমন কিছু বলুন, যা আপনাকে অন্য প্রার্থীদের থেকে আলাদা করে।
৯. আপনি নতুন পরিবেশে কতটা মানিয়ে নিতে পারেন?
১০. নতুন কোম্পানির কাজের পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে কীভাবে মানিয়ে নেবেন?
১১. আগের কর্মস্থলের সঙ্গে এখানকার কাজের পার্থক্য কী বলে মনে করেন?
১২. আপনি যোগ দেওয়ার পর কোম্পানিতে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেন?
১৩. আপনি কি প্রয়োজনে বাড়িতেও অফিসের কাজ করেন?
১৪. আপনার সহকর্মীরা আপনাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন বলে মনে করেন?
১৫. আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে বলুন।
১৬. আপনার কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলুন।
১৭. আপনার জীবনবৃত্তান্ত সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
১৮. আপনি কেন আগের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন?
১৯. আগের কর্মস্থলে আপনার দায়িত্ব কী ছিল?
২০. সেখানে কী ধরনের বড় চ্যালেঞ্জ বা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন? সেগুলো কীভাবে মোকাবিলা করেছেন?
২১. নিজের ভুল থেকে কী শিখেছেন?
২২. আগের চাকরিতে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন?
২৩. আগের চাকরিতে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করতেন?
২৪. আগের চাকরিতে আপনার সবচেয়ে বড় সাফল্য ও ব্যর্থতা কী ছিল?
২৫. আগের কোম্পানির কয়েকটি নেতিবাচক দিক বলুন।
২৬. কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে মতের অমিল হলে কী করেন?
২৭. আপনি কি এই পদের জন্য অতিরিক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন (ওভারকোয়ালিফায়েড)?
২৮. আপনার দক্ষতা সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।
২৯. কর্মক্ষেত্রে আপনার দুর্বলতা কী?
৩০. এই চাকরির দায়িত্বগুলোর মধ্যে কোনটিকে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং মনে করেন?
৩১. আপনি কীভাবে কোম্পানির মান ও মূল্যবোধকে বর্ণনা করবেন?
৩২. নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কতটা পরিকল্পনা করেন?
৩৩. নিজের কোন গুণটির জন্য সবচেয়ে বেশি গর্ব করেন?
৩৪. কী ধরনের কাজ করতে আপনি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন?
৩৫. কাজের প্রয়োজনে ভ্রমণ করতে আপনি কতটা আগ্রহী?
৩৬. আপনার আদর্শ কর্মপরিবেশ বা কোম্পানি সংস্কৃতি কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন?
৩৭. আপনার বর্তমান বেতন কত?
৩৮. কাজের ধকল ও চাপ কীভাবে সামলান?
ইন্টারভিউয়ের আগে এসব প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করার চেয়ে নিজের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও ক্যারিয়ার লক্ষ্য অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে উত্তর দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া বেশি কার্যকর। এতে প্রার্থীর আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগ দক্ষতাও তুলে ধরার সুযোগ থাকে।