স্বর্ণের দাম কি আরও কমতে পারে?

আপলোড সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ১০:০৩:২৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ১০:০৩:২৩ পূর্বাহ্ন

চলতি বছরের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে কয়েক দফা বড় ওঠানামা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার, শক্তিশালী ডলার এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে মূল্যবান এই ধাতুর দামে চাপ দেখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদা স্বর্ণের বাজারকে সমর্থন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

১৬ সেপ্টেম্বরের লেনদেনে স্পট স্বর্ণের দাম একপর্যায়ে ৪ হাজার ২৪০ ডলারের কাছাকাছি নেমে যায়। এর আগে দিনের শুরুতে দাম ৪ হাজার ৩৬৫ ডলারের ওপরে উঠেছিল। ফেডারেল রিজার্ভ ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পর ডলার শক্তিশালী হলে স্বর্ণের ওপর চাপ বাড়ে। কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না; ফলে সুদের হার বাড়লে সুদভিত্তিক সম্পদের তুলনায় স্বর্ণের আকর্ষণ কমতে পারে।

বিশ্ববাজারে চাপের কারণ

স্বর্ণের দাম সাম্প্রতিক সময়ে কমার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি। ফেডের সুদ বাড়ানোর ফলে ডলার শক্তিশালী হয়েছে এবং বাজারে আরও সুদ বাড়ার প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। রোববার পর্যন্ত বাজারে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বাড়ছিল; পরে বুধবারের বৈঠকে ফেড সত্যিই সুদ বাড়িয়েছে।

রয়টার্সের বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উচ্চ সুদের হার ও শক্তিশালী ডলার সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি করে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতির যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, সেটিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার নিয়ে কঠোর অবস্থানের কারণ হয়ে উঠেছে।

তবে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা আবার স্বর্ণের চাহিদা বাড়াতেও পারে। যুদ্ধ, বাণিজ্য উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝোঁকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেনাকাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ

স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদি দামের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মজুদ বাড়ানোর প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের ২০২৬ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, গত চার বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গড়ে বছরে প্রায় ১ হাজার টন স্বর্ণ কিনেছে। আগের দশকে এই গড় ছিল প্রায় ৫০০ টন।

তবে সব বছর একই হারে কেনাকাটা হচ্ছে না। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নিট স্বর্ণ কেনাকাটা ছিল ৮৬৩ টন, যা আগের কয়েক বছরের ১ হাজার টনের বেশি কেনাকাটার তুলনায় কম। তবু দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় এই পরিমাণ যথেষ্ট বেশি।

ফলে স্বর্ণের বাজারে একদিকে সুদের হার ও ডলারের কারণে স্বল্পমেয়াদি চাপ রয়েছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা দীর্ঘমেয়াদে বাজারকে সমর্থন দিতে পারে।

দাম কি আরও কমবে?

স্বর্ণের দাম আরও কমবে কি না, তার নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। কারণ সুদের হার, ডলারের মূল্য, মূল্যস্ফীতি, তেলের দাম এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত বদলে যেতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদে আরও দরপতনের ঝুঁকি উড়িয়ে দিচ্ছেন না বাজার বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ফেডের আরও সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হলে ডলার শক্তিশালী হতে পারে, যা স্বর্ণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে গোল্ডম্যান স্যাকসও জানিয়েছে, সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা নতুন করে জোরালো হলে স্বর্ণের দাম আরও কমতে পারে।

অন্যদিকে, গোল্ডম্যান স্যাকসের ১১ সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাংকটির এই পূর্বাভাসের পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্তিশালী চাহিদা এবং স্বর্ণভিত্তিক এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুদের হার বাড়লে এই পূর্বাভাসের তুলনায় দাম অনেক নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকির কথাও বলা হয়েছে।

অর্থাৎ, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দাম আরও কমার সুযোগ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি চিত্র একেবারে ভিন্ন হতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মজুদ বাড়ানো, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ঝুঁকি—এই বিষয়গুলো স্বর্ণের চাহিদা ধরে রাখতে পারে। ফলে বর্তমান দরপতনকে স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার চূড়ান্ত পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০