'শাহরুখ, অজয় ও টাইগার শ্রফ আইন লঙ্ঘনকারী'

আপলোড সময় : ১৮-০৯-২০২৬ ০৯:৩১:২৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৯-২০২৬ ০৯:৩১:২৬ পূর্বাহ্ন

ভিমল এলাচির বিজ্ঞাপন নিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া বলিউডের তিন অভিনেতা শাহরুখ খান, অজয় দেবগন ও টাইগার শ্রফকে ‘আইন লঙ্ঘনকারী’ হিসেবে দেখছে ভারতের মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন। সংস্থাটির কমিশনার তুকারাম মুন্ধে বলেছেন, নোটিশ পাওয়ার পরও কোনো অভিনেতা জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে বিচারিক ও ফৌজদারি কার্যক্রম নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তুকারাম মুন্ধে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে এসব অভিনেতা তারকা হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তারা এ ঘটনায় বিজ্ঞাপনদাতা। তাই তাদের ক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুকারাম মুন্ধে বলেন, ‘আপনাদের কাছে তারা তারকা হতে পারেন। কিন্তু এই ঘটনায় আমার কাছে তারা শুধু বিজ্ঞাপনদাতা। তাই আমি তাদের আইনের লঙ্ঘনকারী হিসেবেই দেখছি। আইন তার নিজস্ব নিয়মে চলবে। এ কারণেই আমরা ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছি।’

মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের বৃহত্তর মুম্বাই বিভাগ গত ১১ আগস্ট শাহরুখ খান, অজয় দেবগন ও টাইগার শ্রফকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। সংস্থাটির অভিযোগ, ভিমল এলাচির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ পণ্য ভিমল পান মসলার পরোক্ষ প্রচার করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রে ভিমল পান মসলা নিষিদ্ধ।

নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য তিন অভিনেতাকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। তুকারাম মুন্ধে জানান, তিন অভিনেতার মধ্যে দুজন নোটিশের জবাব দিয়েছেন।

কোন দুই অভিনেতা জবাব দিয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মুন্ধে বলেন, বিষয়টি সহকারী কমিশনারের কাছে থাকায় তিনি তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না। শাহরুখ খানের দল নোটিশের জবাব দিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্ভবত তিনি জবাব দেননি। তবে এ বিষয়ে তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত নন।

মুন্ধে আরও বলেন, যে অভিনেতা নোটিশের জবাব দেননি, তার বিরুদ্ধে বিচারিক ও ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নোটিশের জবাব দেওয়া দুই অভিনেতা দাবি করেছেন, বিজ্ঞাপনে প্রচার করা পণ্যটির প্রস্তুতকারকের ওপরই দায় বর্তায়।

এ বিষয়ে মুন্ধে বলেন, অভিনেতাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নোটিশ দেওয়া সহকারী কমিশনার তাদের বক্তব্য শুনবেন এবং বিষয়টি পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপনে কোনো পণ্যের প্রস্তুতকারক মূলত দায়ী হলেও সেটি প্রচার করা তারকার কোনো আইনি দায় নেই—এমন যুক্তিও নাকচ করেছেন মুন্ধে। তার ভাষ্য, খাদ্য নিরাপত্তা আইনে বিজ্ঞাপনের বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। সেখানে বিজ্ঞাপনদাতার সংজ্ঞা এবং তার দায়িত্ব নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

মুন্ধে বলেন, কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন করার আগে সেটি সম্পর্কে যথাযথভাবে খোঁজ নেওয়ার দায়িত্ব বিজ্ঞাপনদাতারও রয়েছে। এটি শুধু নৈতিক দায়িত্বের বিষয় নয়, আইনি দায়িত্বের বিষয়ও। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন সেই আইনি দায়িত্বই প্রয়োগ করছে।

ভিমল এলাচির বিজ্ঞাপন নিয়ে এই আইনি বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট ভিমল এলাচির প্রধান লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান পিবি অ্যাগ্রো এলএলপির করা একটি আবেদন খারিজ করে দেন। প্রতিষ্ঠানটি শাহরুখ খান, অজয় দেবগন ও টাইগার শ্রফের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশ বাতিল চেয়েছিল।

বিচারপতি স্বর্ণ কান্তা শর্মা বলেন, এই মামলার বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টের আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই। কারণ, নোটিশগুলো মুম্বাইয়ের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন দিয়েছে। আদালত বলেন, নোটিশের বিরুদ্ধে এই ধরনের চ্যালেঞ্জের জন্য মহারাষ্ট্রের আদালতই উপযুক্ত জায়গা।

এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তুকারাম মুন্ধে হাসপাতাল খাতে বিভিন্ন পণ্যের অস্বাভাবিক দাম নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, হাসপাতালের ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যে ১৫০ শতাংশ থেকে ২ হাজার ৮০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জাতীয় ওষুধ মূল্য নির্ধারণ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে।

মুন্ধে একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, শিরায় ওষুধ দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি সেট ১১ রুপিতে কেনা হলেও এর সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য রাখা হয়েছিল ৩২৫ রুপি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ বিষয়টি তুলে ধরেন।

মুন্ধের মতে, হাসপাতালের এসব পণ্যের দামের বিষয়টি বাণিজ্যিক মূল্য নির্ধারণের নিয়মের মাধ্যমে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা দরকার। এ কারণেই বিষয়টি জাতীয় ওষুধ মূল্য নির্ধারণ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখন বিষয়টি পরীক্ষা করছে।

প্রয়োজনে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হতে পারে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া এসব পণ্যের দাম ও মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের আওতায় থাকা ওষুধ মূল্য নিয়ন্ত্রণ আদেশের অধীনে আনা যায় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

হাসপাতালের পণ্যে এত বেশি দাম নেওয়ার জন্য কারা দায়ী—এমন প্রশ্নের জবাবে মুন্ধে বলেন, বিষয়টি জাতীয় ওষুধ মূল্য নির্ধারণ কর্তৃপক্ষকেই খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় একটি ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির কারণে পুরো ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া বা ‘শোষণ’ করা হচ্ছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা দরকার।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০