সরিষা শাক থেকে খাসির স্যুপ, কেমন খাবার পছন্দ চীনা প্রেসিডেন্টের?

আপলোড সময় : ২০-০৯-২০২৬ ১২:১২:৩৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-০৯-২০২৬ ১২:১২:৩৮ অপরাহ্ন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিদেশ সফর মানেই কঠোর নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা ও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। তবে এসবের আড়ালে তার খাবারের পছন্দের গল্পটি বেশ সাধারণ। দামি ও রাজকীয় খাবারের চেয়ে সাধারণ মানুষের পরিচিত খাবারের প্রতিই তার ঝোঁক বেশি—এমন বেশ কিছু উদাহরণ রয়েছে।

সম্প্রতি ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা অবস্থান করেন শি জিনপিং। তার সফরের খাবার নিয়ে তেমন আলোচনা না হলেও বিভিন্ন সময়ে নথিভুক্ত হওয়া মধ্যাহ্ন ও নৈশভোজের তথ্য থেকে তার খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

মাত্র ২১ ইউয়ানের খাবার

শি জিনপিংয়ের খাবার নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের। সেবার বেইজিংয়ের একটি কিংফেং স্টিমড বান রেস্তোরাঁয় গিয়ে তিনি ছয়টি শূকরের মাংস ও পেঁয়াজপাতা দেওয়া বান, এক বাটি রান্না করা কলিজা এবং এক প্লেট সরিষা শাকের তরকারি অর্ডার করেন। পুরো খাবারের দাম ছিল ২১ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০০ টাকা।

পিপলস ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়, শি লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেই খাবারের মূল্য পরিশোধ করেন। পরে অন্যদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে খাবার খান। রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাকে সাধারণ একটি রেস্তোরাঁয় এভাবে খাবার খেতে দেখে ঘটনাটি তখন ব্যাপক আলোচনায় আসে।

মদ পরিবেশনেও আপত্তি

২০১২ সালে হেবেই প্রদেশের ফুপিং কাউন্টি সফরের সময়ও শি জিনপিংয়ের নৈশভোজে ছিল সাধারণ খাবার। পিপলস ডেইলির তথ্য অনুযায়ী, সেদিন তার খাবারের তালিকায় ছিল বাদামি সসে রান্না করা মুরগির মাংস, শূকরের পেটের মাংস দিয়ে রসুনের কুঁড়ি ভাজি এবং রসুন দিয়ে রান্না করা গারল্যান্ড ক্রিস্যান্থেমাম শাক।

তবে খাবারের সময় তিনি কর্মীদের মদ পরিবেশন না করার নির্দেশ দেন।

ওই সফরে শি একটি মাত্র ১৬ বর্গমিটারের ছোট হোটেলকক্ষে অবস্থান করেন। কক্ষটির বাথরুমের কিছু টাইলসও ভাঙা ছিল। কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানালে তিনি জানান, কক্ষটি পরিষ্কার এবং থাকার জন্য ভালো। সফর শেষে হোটেলের বিল দ্রুত পরিশোধের নির্দেশও দেন তিনি।

পুরোনো দিনের খাবারের প্রতি টান

শি জিনপিংয়ের খাবারের পছন্দের সঙ্গে তার জীবনের শুরুর দিকের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। তরুণ বয়সে তিনি শানসি প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামে বসবাস ও কাজ করেন। ২০১৫ সালে সেখানে ফিরে গিয়ে তিনি ঘরোয়া খাবার খান। সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, খাবারের তালিকায় ছিল আচার, ভাজা কেক, মুরগির মাংস, খাসির মাংস ও কুমড়া।

শানসির খাবার তার রাজনৈতিক অতিথিদের জন্য আয়োজিত ভোজেও জায়গা পেয়েছে। ২০১৪ সালে বেইজিংয়ে তৎকালীন কুওমিনতাং চেয়ারম্যান লিয়েন চ্যানের সঙ্গে বৈঠকের সময় আয়োজিত খাবারে ছিল খাসির মাংসের পাই, খাসির মাংসের স্যুপ ও নুডলস। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছিল।

একই বছর চীনা নববর্ষের আগে ইনার মঙ্গোলিয়ায় সেনাসদস্যদের সঙ্গে খাবার খান শি। পিপলস ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়, সেদিন তার খাবারের মধ্যে ছিল টমেটো দিয়ে ভাজা ডিম।

কী ধরনের খাবার পছন্দ শির?

শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত খাবার এবং বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। রাষ্ট্রীয় ভোজ মূলত কূটনৈতিক আয়োজন, যেখানে বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষ খাবার ও উপকরণ পরিবেশন করা হয়।

অন্যদিকে, বিভিন্ন সময়ে নথিভুক্ত শির ব্যক্তিগত খাবারের তালিকায় বারবার উঠে এসেছে স্টিমড বান, নুডলস এবং শানসির ঘরোয়া রান্নার মতো সাধারণ খাবার।

এসব তথ্য থেকে দেখা যায়, চীনা প্রেসিডেন্টের খাবার নিয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর অনেকগুলোই দামি রাষ্ট্রীয় ভোজ নয়; বরং সাধারণ মানুষের পরিচিত খাবারকে ঘিরে। বিশেষ করে শানসি অঞ্চলের খাবারের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত স্মৃতির একটি যোগসূত্র রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০