চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে আছেন রাফিনিয়া। গোলের পর গোল করে বার্সেলোনার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড। তবে ক্লাবের জার্সিতে এমন পারফরম্যান্সের পরও ব্রাজিল জাতীয় দলে তাকে নিয়ে সমালোচনা কমছে না।
বার্সেলোনা ও ব্রাজিলের হয়ে রাফিনিয়ার পারফরম্যান্সে পার্থক্যের পেছনে মূলত তার খেলার ভূমিকা, দলের কৌশল ও প্রত্যাশার চাপ—এই তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বার্সেলোনায় কেন উজ্জ্বল রাফিনিয়া
কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনায় রাফিনিয়া তুলনামূলকভাবে স্বাধীন ভূমিকায় খেলেন। তাকে শুধু নির্দিষ্ট একটি প্রান্তে আটকে না রেখে মাঝমাঠের কাছাকাছি কিংবা আক্রমণভাগের ভেতরেও দেখা যায়।
ডান প্রান্তে লামিনে ইয়ামালের উপস্থিতির কারণে রাফিনিয়া অনেক সময় ভেতরের দিকে সরে আসেন। সেখান থেকে বল তৈরি করা, সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় এবং বক্সে ঢুকে গোলের সুযোগ নেওয়ার স্বাধীনতা পান তিনি।
বার্সেলোনার দ্রুতগতির আক্রমণ ও প্রেসিংভিত্তিক ফুটবলের সঙ্গেও তার খেলার ধরন মানিয়ে যায়। বল ছাড়া দৌড়, আক্রমণভাগে অবস্থান পরিবর্তন এবং ফিনিশিং—সব মিলিয়ে দলটির আক্রমণ পরিকল্পনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে রাফিনিয়ার। ফলে বার্সেলোনার আক্রমণভাগে তার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্রাজিলের জার্সিতে কেন ভিন্ন
ব্রাজিল জাতীয় দলে রাফিনিয়াকে বেশিরভাগ সময় প্রচলিত ডান প্রান্তের উইঙ্গার হিসেবে খেলানো হয়। বার্সেলোনায় যে স্বাধীনতা নিয়ে মাঝমাঠের দিকে সরে এসে আক্রমণ সাজাতে পারেন, জাতীয় দলে অনেক সময় সেই সুযোগ পান না।
এ ছাড়া জাতীয় দলের খেলার ধরন বার্সেলোনার মতো ধারাবাহিকভাবে সমন্বিত নয়। ক্লাবে ইয়ামাল, পেদ্রি ও অন্য সতীর্থদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া থাকলেও জাতীয় দলে খেলোয়াড়দের একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ তুলনামূলক কম। ফলে আক্রমণভাগে সেই স্বয়ংক্রিয় সমন্বয় সবসময় দেখা যায় না।
শক্তিশালী বা রক্ষণাত্মক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এ পার্থক্য আরও স্পষ্ট হতে পারে। তখন রাফিনিয়াকে অনেক সময় এককভাবে আক্রমণ তৈরি করার দায়িত্ব নিতে হয়।
প্রত্যাশার বাড়তি চাপ
এর সঙ্গে রয়েছে ব্রাজিলের জার্সির বাড়তি চাপ। পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী দেশের হয়ে মাঠে নামলে একজন তারকা খেলোয়াড়ের কাছ থেকে স্বাভাবিকভাবেই বড় পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করা হয়।
গোল ও সুযোগ তৈরির পাশাপাশি সমর্থক ও গণমাধ্যমের প্রত্যাশাও থাকে অনেক বেশি। বার্সেলোনায় যে পরিবেশে রাফিনিয়া নিয়মিত নিজের পছন্দের ভূমিকায় খেলতে পারেন, জাতীয় দলে সেই পরিস্থিতি সবসময় থাকে না।
ফলে ক্লাব ও জাতীয় দলের কৌশলগত পার্থক্য, সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়া এবং প্রত্যাশার চাপ—এই বিষয়গুলো মিলিয়ে দুই জার্সিতে রাফিনিয়ার পারফরম্যান্সে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।