কওমি মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও অপমানজনক শাস্তি নিষিদ্ধ

আপলোড সময় : ২০-০৯-২০২৬ ০৮:১৭:২২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-০৯-২০২৬ ০৮:১৭:২২ অপরাহ্ন
দেশের কওমি মাদরাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক প্রহার ও অপমানজনক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে কওমি শিক্ষা বোর্ডগুলোর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি কওমি মাদরাসায় অবিলম্বে ‘ছাত্র/ছাত্রী-সুরক্ষা কমিটি’ গঠন ও কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশে দেশের ছয়টি কওমি বোর্ড এবং তাদের অধিভুক্ত সব মাদরাসার উদ্দেশে এসব দিকনির্দেশনা জারি করা হয়।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কওমি মাদরাসায় শিক্ষার্থী নির্যাতন এবং কিছু ব্যক্তির অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ ও অভিযোগ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের শাসনের মূল উদ্দেশ্য হতে হবে সংশোধন ও কল্যাণ নিশ্চিত করা; কোনোভাবেই প্রতিশোধ নেওয়া নয়। রাগের অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া যাবে না।
শিক্ষার্থীকে শাসনের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে নম্রভাবে সতর্ক করা, প্রয়োজন হলে মৃদু ভর্ৎসনা এবং পরবর্তী পর্যায়ে ধমকের সুযোগ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে অভিভাবককে ডেকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়ে তাদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে কোনো অবস্থাতেই শাস্তি হিসেবে শিক্ষার্থীকে প্রহার করা যাবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। লাঠি, বেত বা অন্য কোনো যন্ত্র দিয়ে আঘাত করা, মুখমণ্ডল, মাথা কিংবা স্পর্শকাতর কোনো অঙ্গে আঘাত করা এবং হাড় ভাঙা, রক্তপাত বা শরীরে দাগ সৃষ্টি করতে পারে—এমন যেকোনো শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রকাশ্যে অপমান, গালমন্দ, কটু ভাষায় কথা বলা, ঘৃণাসূচক বা অপমানজনক নামে ডাকা এবং যেকোনো ধরনের মানসিক নির্যাতনমূলক আচরণ থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্যকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে শরিয়ত ও প্রচলিত আইন—উভয় দৃষ্টিতেই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আল-হাইআতুল উলয়া আরও জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করা হবে। অপরাধীকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় না দেওয়াই তাদের নীতি বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার কারণে পুরো কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সমীচীন নয় বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। একইভাবে ব্যক্তিবিশেষের অপরাধের দায় কোনো মাদরাসা, শিক্ষা বোর্ড কিংবা সামগ্রিক আলেম-উলামা ও শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যৌক্তিক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০