বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

আপলোড সময় : ২২-০৯-২০২৬ ১২:২৫:১৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-০৯-২০২৬ ১২:২৫:১৮ অপরাহ্ন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, জনগণের অধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

মাহ্দী আমিন প্রধানমন্ত্রীর এবারের জাতিসংঘ সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

তিনি বলেন, এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান, ভিশন ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দেশের জাতীয় স্বার্থ, জনগণের অধিকার ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ। একই সঙ্গে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তিনি এ মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন। তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে এবং মা খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে প্রথমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফর সংক্ষিপ্ত। যাতায়াতসহ মোট ছয় দিনের সফরে নিউইয়র্কে অবস্থানের চার কর্মদিবসে তিনি বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন।

তিনি বলেন, এসব বৈঠকে বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থ, সাধারণ মানুষের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, এবারের সফরে অতীতের তুলনায় ছোট প্রতিনিধিদল নেওয়া হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ২৬ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এর বাইরে নিরাপত্তা, গণমাধ্যম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন।

তুর্কি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা নিউইয়র্ক সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। পরে মোটর শোভাযাত্রা করে তাঁকে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে নেওয়া হয়। সফরকালে তিনি এই হোটেলেই অবস্থান করবেন।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত প্রাতঃরাশের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেবেন এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও সৌজন্য বৈঠকে অংশ নেবেন।

সফরকালে প্রতিদিনের কূটনৈতিক বৈঠক ও কর্মসূচির সারসংক্ষেপ গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে মাহ্দী আমিন জানান।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০