নেত্রকোনা সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আবু সায়েমের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক, শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করা হবে।
অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে জেলার মদন উপজেলার হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজে দর্শন বিভাগের প্রভাষক পদে বেসরকারিভাবে নিয়োগ পান মোহাম্মদ আবু সায়েম। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়নি এবং মৌখিক পরীক্ষায় দর্শন বিভাগে একমাত্র প্রার্থী ছিলেন আবু সায়েম।
অভিযোগকারীর দাবি, একটি পদের বিপরীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রার্থী উপস্থিত না থাকলে বাছাই প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতামূলক হয় না। ওই নিয়োগে প্রতিযোগিতামূলক বাছাইয়ের শর্ত পূরণ হয়নি। পরে ২০১৩ সালে কলেজটি জাতীয়করণ হলে আত্তীকরণের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিধি অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বেসরকারি নিয়োগটি বিধিসম্মত না হলে পরবর্তী সময়ে আত্তীকরণের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে তার বেসরকারি ও সরকারি নিয়োগের বৈধতা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগের সঙ্গে একমত নন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হক। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে মোহাম্মদ আবু সায়েমসহ দুজন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নিয়োগ বোর্ডে তিনি এবং তৎকালীন নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন। তাঁর দাবি, প্রত্যেক পদের বিপরীতে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রভাষক মোহাম্মদ আবু সায়েম বলেন, দুটি পদের বিপরীতে ১৩ জন আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে তিনি ও অপর একজন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রতি পদের বিপরীতে তিনজন প্রার্থী থাকার কথা থাকলেও মহাপরিচালকের অনুমোদন নিয়ে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি এবং পরিচিত একজন প্রতিহিংসা থেকে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।
আবু সায়েম আরও বলেন, ২০১৩ সালে কলেজটি জাতীয়করণের পর তিনি আত্তীকরণের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পান। পরে নেত্রকোনা সরকারি মহিলা কলেজে এবং সম্প্রতি নেত্রকোনা সরকারি কলেজে বদলি হন।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হবে। দ্রুতই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অভিযোগটি তদন্তের জন্য বলা হবে।