বিশ্বে এল নিনোর প্রভাবে আগামী ৬ মাসে প্রাণ হারাতে পারে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ

আপলোড সময় : ২৪-০৯-২০২৬ ১১:৪৩:৪৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-০৯-২০২৬ ১১:৪৩:৪৮ পূর্বাহ্ন

চলতি বছরের শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তীব্র দাবদাহ, খরা, দাবানল ও পানির সংকট বাড়তে পারে। এর মধ্যে অতিরিক্ত তাপের কারণে জুন ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব।

বুধবার প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাভাবিক বছরের তুলনায় এল নিনোর পুরো সময়জুড়ে তাপমাত্রাজনিত অতিরিক্ত মৃত্যুর এ হিসাব করা হয়েছে। তবে বর্তমান প্রক্ষেপণের আওতায় আগামী ছয় মাসে অতিরিক্ত প্রায় ২ লাখ ৩৯ হাজার মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। এল নিনোর প্রভাব ফেব্রুয়ারির পরও অব্যাহত থাকলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, দরিদ্র ও তুলনামূলক উষ্ণ দেশগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি হতে পারে। বিশেষ করে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার কয়েকটি অঞ্চলকে উচ্চ ঝুঁকিতে রাখা হয়েছে। সাহেল অঞ্চলে অতিরিক্ত প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ তাপজনিত মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৯ হাজার ৩০০, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০, ভারতে ১৫ হাজার ৮০০ এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার ৩০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও গবেষণার সহলেখক মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, উষ্ণ ও তুলনামূলক দরিদ্র অঞ্চলে অতিরিক্ত কয়েক ডিগ্রি তাপমাত্রা মানুষের জন্য বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ধনী দেশগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নির্ভরযোগ্য পানি সরবরাহ ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ থাকায় তাপের প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব।

গবেষণায় বিশ্বের ২৪ হাজার ৩৭৮টি অঞ্চলে তাপমাত্রা ও মৃত্যুহারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এরপর স্থানীয় তাপমাত্রার পূর্বাভাসের সঙ্গে গত ৩০ বছরের গড় তাপমাত্রার তুলনা করে এল নিনোর কারণে অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রক্ষেপণ করা হয়। গবেষণার এই পদ্ধতি এর আগে প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও প্রতিবেদনটির পূর্ণ ফলাফল এখনো পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত হয়নি।

গবেষকদের হিসাবে, এল নিনোর কারণে আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক স্থলভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। এর ফলে স্বাভাবিক বছরের তুলনায় চরম গরমের দিন ৪৪ শতাংশ বাড়তে পারে। গবেষকেরা বলছেন, এই তাপমাত্রার মাত্রা প্রায় ২০ বছর পর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় পরিণত হতে পারে—এ কারণে বর্তমান পরিস্থিতিকে ভবিষ্যতের জলবায়ুর একটি ‘আগাম বার্তা’ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

প্রাণহানি কমাতে দাবদাহের আগাম সতর্কবার্তা, শীতলীকরণ কেন্দ্র, পানির ব্যবস্থা, খোলা জায়গায় কাজ করা শ্রমিকদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানো এবং বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ওপর বাড়তি নজরদারির মতো পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। জরুরি পরিস্থিতির আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অর্থ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০