ইউপি সদস্যের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিপাকে বিধবা

আপলোড সময় : ২৫-০৯-২০২৬ ১১:১৬:২১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-০৯-২০২৬ ১১:১৬:২১ পূর্বাহ্ন

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের বিরুদ্ধে সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক বিধবাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে যৌন হয়রানি, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তার ছেলেকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও করেছেন ওই নারী। এ ছাড়া তার কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং গভীর রাতে বসতঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিধবা বুধবার বুড়িচং থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার বাড়ি উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নে।

অভিযোগে ওই নারী বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর চার সন্তান নিয়ে তিনি আর্থিক সংকটে পড়েন। সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে সরকারি সহায়তার আশায় বাকশীমূল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আবুল কাসেমের কাছে যান। তিনি চালের কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেন। এর বিনিময়ে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আবুল কাসেম তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। এরপর থেকে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্ষতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বড় অঙ্কের চাঁদা দাবিরও অভিযোগ করেছেন ওই নারী।

তার অভিযোগ, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে আবুল কাসেম তার বসতঘরের দরজা খোলার জন্য ধাক্কাধাক্কি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি চিৎকার করলে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ওই ইউপি সদস্য। বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া এবং এতে সাড়া না দিলে সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। এসব ঘটনায় সন্তানদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান ওই নারী।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর একই এলাকার আবুল কাসেম মেম্বারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফয়সাল বাড়ি থেকে বিধবার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তিন দিন তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

বাকশীমূল ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা দাবি করেন, আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুল কাসেমের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বাকশীমূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘আমি প্রথম বিষয়টি জানতে পারলাম।’

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম লুৎফুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগের কপি আমার হাতে পৌঁছেনি। ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০