জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় ইরানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার পর এ ঘটনা ঘটে।
ইরানি প্রতিনিধিরা কক্ষ ত্যাগের সময় তাদের নির্ধারিত আসনে কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানির একটি প্রতিকৃতি রেখে যান। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় সোলেইমানি নিহত হন।
নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুরুর পর ইরান ছাড়াও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। ওয়াকআউটের সময় কয়েকজনকে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করতে শোনা যায়। এর জবাবে নেতানিয়াহু যারা বেরিয়ে যাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে কড়া মন্তব্য করেন এবং যারা থাকতে চান না তাদেরও বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
ভাষণে নেতানিয়াহু ইরানের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করেন এবং ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও বক্তব্য দেন। পাশাপাশি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানসহ ইসরাইলের সমালোচকদের আক্রমণ করেন।
নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে ও সময় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ইসরাইলের নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর কয়েকজনকে আটক করা হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে অন্তত ৩০ জন আটকের কথা বলা হয়েছে; তাদের মধ্যে অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন ও হান্না আইনবাইন্ডারও ছিলেন।
এদিকে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘের অধিবেশনে সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না দেওয়ার কারণে তিনি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেন।
নেতানিয়াহুর এই ভাষণ এমন সময়ে হলো, যখন গাজা ও ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। একই সঙ্গে আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।