জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের নাগরিক জাইমা রহমান। তার নিয়োগের পর এই পদে তাঁর দায়িত্ব, নিয়োগের প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে কাজ করছেন। সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি ২ জুন ২০২৬ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৮১তম অধিবেশনের দায়িত্ব পালন করছেন।
সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকায় জাইমা রহমানকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কার্যালয়ে মোট ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মী ২৯টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং ছয়টি ভাষায় কাজ করছেন। তালিকায় জাইমা রহমান ছাড়াও বাংলাদেশের আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয় মূলত সভাপতিকে তাঁর দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে। সাধারণ পরিষদের ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্রের বৈঠক পরিচালনা, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় এবং অধিবেশনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ায় সভাপতিকে সহায়তা করে এই কার্যালয়।
জাইমা রহমানের পদটি জাতিসংঘ সচিবালয়ের মূল আইন বিভাগের নিয়মিত কোনো পদ নয়। তিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের অংশ হিসেবে সভাপতিকে আইনি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। এ ধরনের দায়িত্বের মধ্যে সাধারণ পরিষদের কার্যপ্রণালি, প্রস্তাব বা সংশোধনী, সভা পরিচালনার বিধি এবং জাতিসংঘের সনদ ও সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুনের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়গুলোতে পরামর্শ দেওয়া থাকতে পারে।
সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের সঙ্গে জাতিসংঘের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আইনি সমন্বয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি বা আন্তর্জাতিক বিষয়ে বক্তব্য ও নথি প্রস্তুতেও আইন কর্মকর্তার ভূমিকা থাকতে পারে। মূল উদ্দেশ্য হলো সভাপতির কার্যক্রম যেন জাতিসংঘের বিধি, সনদ ও প্রচলিত রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, সে বিষয়ে সহায়তা করা।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানকে ব্যারিস্টার ও আইন এবং নীতি বিষয়ে পেশাজীবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন ও রাজনীতি বিষয়ে এলএলবি করেছেন এবং ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের দ্য অনারেবল সোসাইটি অব দ্য ইনার টেম্পলের মাধ্যমে ব্যারিস্টারি পেশার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে আবাসন, কল্যাণ ও শ্রম আইন, স্বাস্থ্য খাতে আইনি পরামর্শ এবং সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষা আইনে বিনামূল্যে আইনি সেবায় তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সাংবিধানিক, করপোরেট ও বাণিজ্যিক আইন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং করসংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়েছে, সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার, শিক্ষা, লিঙ্গসমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি তাঁর আগ্রহের ক্ষেত্র। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে সভাপতি তাঁর কার্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় টিম গঠন করেন। ড. খলিলুর রহমান তাঁর নির্বাচনী বক্তব্যে জানিয়েছিলেন, তিনি তাঁর কার্যালয়ে ভৌগোলিক, লিঙ্গ ও ভাষাগত ভারসাম্য বজায় রাখবেন।
ফলে জাইমা রহমানের দায়িত্বের মূল বিষয় হবে সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে আইনি ও নীতিগত বিষয়ে সহায়তা করা। তাঁর পদটি সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের একটি নির্দিষ্ট দায়িত্ব, যা জাতিসংঘের নিয়ম ও কার্যপ্রণালির মধ্যে সভাপতির কাজ পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।