চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের অনলাইনে যোগদান প্রত্যাখ্যান করে ‘লাল কার্ড’ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে গ্রাফিতি অঙ্কন ও দেয়াল লিখন কর্মসূচিও পালন করেন তারা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। গ্রাফিতিতে বিভিন্ন প্রতিবাদী বক্তব্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ছিল—‘ফরমান জারি করে খোলা যায় দ্বার?’ এবং ‘উই আর দ্য ওয়ান’সহ বিভিন্ন লেখা।
পরে দুপুর আড়াইটার দিকে নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন শিক্ষার্থীরা। লাল কার্ড হাতে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তারা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হন। সেখানে অবস্থান নিয়ে ‘রেড কার্ড টু অনলাইন ভিসি’, ‘অনলাইন ভিসিকে মানি না, মানব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান বলেন, নতুন উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ৩০-৩৫ জনের আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, প্রতিটি হল থেকে শত শত শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। নতুন উপাচার্যের ওই বক্তব্য এবং অনলাইনে যোগদানকে তারা প্রত্যাখ্যান করছেন।
এদিকে নিয়োগের পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও নতুন উপাচার্য এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেননি বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। শনিবার তিনি ক্যাম্পাসে আসতে পারেন—এমন খবরে শিক্ষার্থীরা রাতভর প্রধান ফটকে অবস্থান নেন।
শিক্ষার্থীদের শাটডাউন কর্মসূচি শনিবার পঞ্চম দিনের মতো চলেছে। এর আগে শিক্ষক সমিতি বৃহস্পতিবার এবং কর্মকর্তা সমিতি শুক্রবার পূর্ণ কর্মবিরতি ঘোষণা করে। শনিবার জরুরি সভা শেষে কর্মচারী সমিতিও কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।