বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, নাতির জন্মের পর তিনি একজন মাদ্রাসাশিক্ষককে ডেকে শিশুর কানে আজান শোনান। পাশাপাশি একটি মাদ্রাসার ১২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে নতুন পোশাক ও খাবার দেওয়ার ব্যবস্থাও করেন তিনি।
ভাইরাল পোস্টে আরও দাবি করা হয়, আজানের অর্থ ও অনুবাদ জানার পর এতে মুগ্ধ হন নানা পাটেকার। নাতির জীবনের শুরুতেই তিনি এই পবিত্র ধ্বনি শোনাতে চেয়েছিলেন বলেও পোস্টগুলোতে উল্লেখ করা হয়। এমনকি বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হলে নিজের জীবন নিজের মতো করে যাপনের কথা বলেছেন বলেও দাবি করা হয়।
তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভারতীয় ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান নিউজচেকার ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, নানা পাটেকারের নাতির কানে আজান শোনানো কিংবা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পোশাক ও খাবার দেওয়ার দাবির সমর্থনে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফ্যাক্ট-চেকারদের অনুসন্ধানে নানা পাটেকারের পারিবারিক তথ্যও যাচাই করা হয়। StarsUnfolded, FilmiBeat ও IMDb-সহ বিভিন্ন উৎসের তথ্য পর্যালোচনা করে তারা দেখতে পায়, নানা পাটেকারের ছেলে হিসেবে মালহার পাটেকারের তথ্য রয়েছে। তবে তার ছেলে বা মেয়ের সন্তান অর্থাৎ নানা পাটেকারের নাতি-নাতনি থাকার বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভাইরাল পোস্টের সঙ্গে ব্যবহৃত ছবিগুলো নিয়েও সন্দেহের কারণ রয়েছে। রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে এসব ছবির উৎস খুঁজেও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
বরং ছবিগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-সংক্রান্ত ওয়াটারমার্কের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন এআই ডিটেকশন টুলের ফলাফলে এগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
নানা পাটেকারের পরিবার সম্পর্কে অন্যান্য নির্ভরযোগ্য তথ্যেও তার ছেলে মালহার পাটেকারের উল্লেখ রয়েছে। জি ফাইভের একটি প্রোফাইলেও তার স্ত্রী নীলকান্তি এবং সন্তান হিসেবে মালহার পাটেকারের তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে নাতি বা নাতনির বিষয়ে এমন কোনো তথ্য নেই, যা ভাইরাল দাবিকে সমর্থন করে।
কিছু ওয়েবসাইটে অবশ্য ঘটনাটি ‘reportedly’ বা ‘প্রতিবেদন অনুযায়ী’ বলে প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু সেসব প্রতিবেদনে দাবিটির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে শুধু ওই ধরনের প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে ঘটনাটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
সব মিলিয়ে, নানা পাটেকার নাতির কানে আজান শুনিয়েছেন এবং ১২০ জনের বেশি মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে নতুন পোশাক ও খাবার দিয়েছেন—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং ভাইরাল ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার যথেষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই গল্পকে সত্য ঘটনা হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর।