মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যার রায় নভেম্বরে: গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী

আপলোড সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ১০:৩৯:১১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ১০:৩৯:১১ পূর্বাহ্ন

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার করা মামলার রায় আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে অথবা নভেম্বরের শুরুতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী দাউদা এ. জালো।

বেসরকারি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ২৪-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ প্রমাণে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) বিপুল পরিমাণ সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে গাম্বিয়া। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের পর ২০১৯ সালে গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে আইসিজেতে মামলা করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি। মামলাটি গাম্বিয়া দায়ের করে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলাটির মূল শুনানি চলতি বছরের জানুয়ারিতে শেষ হয়েছে। গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী জানান, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই মামলাটির রায় ঘোষণা হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। তাঁর মতে, রায় অক্টোবরের শেষ দিকে অথবা নভেম্বরের শুরুর দিকে আসতে পারে।

মামলার শুনানিতে রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের আদালতে হাজির করে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান দাউদা এ. জালো। পাশাপাশি স্যাটেলাইট ছবি, জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদন, বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) রিপোর্ট এবং বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্যসহ বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে উপস্থাপন করা প্রমাণের পরিমাণ অনেক। রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের আন্তর্জাতিক আদালতে হাজির করে তাঁদের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ছবি, বিভিন্ন প্রতিবেদন ও এনজিওর রিপোর্টসহ নানা ধরনের প্রমাণ আদালতের সামনে পেশ করা হয়েছে।

রায়ে মিয়ানমারকে গণহত্যার জন্য দায়ী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন দাউদা এ. জালো। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মিয়ানমারের আইনের আওতায় বিচারের বিষয়ে আদালত নির্দেশনা দিতে পারেন বলেও আশা করেন তিনি।

তিনি বলেন, আদালতে বিপুল পরিমাণ প্রমাণ উপস্থাপন করায় তাঁরা আশাবাদী যে আইসিজে গাম্বিয়ার সঙ্গে একমত হবে এবং মিয়ানমারকে গণহত্যার জন্য দায়ী সাব্যস্ত করবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন প্রতিকারের দাবিও জানিয়েছে গাম্বিয়া।

এসব দাবির মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, নিজ নিজ ভিটেমাটিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার, হারানো সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের সুযোগ এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অধিকার।

মিয়ানমার আইসিজের রায় না মানলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ওই রায়কে শক্তিশালী আইনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০