রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভেকু নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি থেকে লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশ করে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করা হয়। একপর্যায়ে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবনসহ স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি শাহ আলী থানাধীন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে প্রবেশ করেন। তাঁরা সীমানাপ্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আবদুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর পূর্ব পাশের প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি আধাপাকা ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি আধাপাকা ঘর ও আসবাব ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ১৭ ফুট প্রস্থের একটি আধাপাকা ঘর, সেখানকার আসবাব ও চিকিৎসাসামগ্রী ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের রেজিস্ট্রেশন শাখায় ভাঙচুর চালিয়ে আরও প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আলট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরির পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভাঙচুরের পাশাপাশি দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, তিনটি স্টিলের আলমারি এবং বিপুল পরিমাণ ওষুধসহ অন্যান্য সামগ্রী লুট করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। লুট হওয়া এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় রাড্ডা সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেন।