সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় আগাম সংসদ নির্বাচনে নিজের দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার পথ তৈরি করতেই তিনি প্রেসিডেন্টের পদ ছেড়েছেন।
বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্টের দপ্তরে সমর্থকদের সামনে দেওয়া বক্তব্যের পর ভুচিচ আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন। তিনি বলেন, সোমবার থেকে সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন করতে হবে।
ভুচিচের দ্বিতীয় মেয়াদ আগামী ২০২৭ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী তিনি তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে পারেন না। ফলে আগাম সংসদ নির্বাচনে নিজের দলকে নেতৃত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই তিনি নির্ধারিত মেয়াদের কয়েক মাস আগে পদত্যাগ করলেন।
ভুচিচের পদত্যাগের পেছনে প্রায় দুই বছর ধরে চলা ছাত্র নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা এ ঘটনায় দুর্নীতি ও সরকারি ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে জবাবদিহি এবং আগাম নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সময়ের সঙ্গে পুলিশের আচরণ ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার অভিযোগ নিয়েও উত্তেজনা বাড়ে। সরকার অবশ্য বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এরই মধ্যে গত ৯ সেপ্টেম্বর ভুচিচ সংসদ ভেঙে দিয়ে ২৫ অক্টোবর আগাম সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। ওই নির্বাচনে ভুচিচের নেতৃত্বাধীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি অংশ নেবে। ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলন এবং বিরোধী দলগুলোও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পদত্যাগের আগে ভুচিচ তার সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে কয়েক ডজন ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন। এদের মধ্যে ছাত্রও রয়েছেন। এসব ব্যক্তি গত দেড় বছরের বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে জড়িত মামলায় অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন ছিলেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
সার্বিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন ভুচিচ। ২০১৪ সালে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তার শাসনামলে সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং চীনা বিনিয়োগের নীতিও বজায় রেখেছে।