রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের জমি দখল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় মালিকানা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জমির বরাদ্দ ও দখল নিয়ে রাড্ডা কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নথি অনুযায়ী, মিরপুর সেকশন-১, ব্লক ‘ডি’, এভিনিউ-৪-এর দক্ষিণ পাশে ৬/১ নম্বর প্লটটির মূল মালিক জাগৃক। একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৬ সালে ৯৯ বছরের জন্য জমিটি সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে ২০২১ সালের ২৯ জুন সমিতির সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিনের নামে লিজ দলিল সম্পন্ন হয়।
জাগৃকের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ওই জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়েছে। তবে নথিপত্র পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন, জমিটি কখনো রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ২০০৬ সালে সমমনা সমবায় সমিতিকে জমিটি বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং ২০২১ সালে তাদের নামে লিজ দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়।
অন্যদিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা ১৯৭৪ সাল থেকে ওই স্থানে সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য মাতৃ ও শিশুসেবা দিয়ে আসছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং বিভিন্ন সময়ে সেই অনুমতির মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, ১৯৭৪ সাল থেকে তারা সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ১৯৮৩ সালে সর্বশেষ চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, ২০২১ সালে সমমনা সমবায় সমিতির সঙ্গে জাগৃকের লিজ দলিল সম্পন্ন হওয়ার পর ওই বছরই রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে একটি রিট করা হয়। রিটটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এর মধ্যেই জমিটি দখল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
তবে জাগৃকের কাছে জমির বৈধ মালিকানা পাওয়ার জন্য রাড্ডা কর্তৃপক্ষ কোনো আবেদন করেনি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ বিষয়ে ডা. নাসরিন আখতার বলেন, যেহেতু স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে তারা সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি কোনো ব্যক্তির নামে নয়, তাই সরকারি জায়গায় সেবামূলক কাজ পরিচালনায় বাধা হবে না বলে তারা মনে করেছিলেন।
অন্যদিকে, ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ওই স্থানে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও তাদের অবগত না করে কীভাবে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নামে জমি বরাদ্দ দেওয়া হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জাগৃকের কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, কাগজপত্র অনুযায়ী জমিটির বর্তমান লিজগ্রহীতা সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড। তবে জমির দখল নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে সমাধানের সুযোগ ছিল। ভাঙচুর বা জবরদস্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।