টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ১২টি লিফটের মধ্যে ৫টি দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর সঙ্গে তীব্র জনবল সংকট থাকায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে হাসপাতালের প্রথম তলায় লিফটের সামনে রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। গুরুতর অসুস্থ, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগী ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের লিফটের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলায় রেডিওলজি বিভাগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিচে নামার জন্য লিফটের অপেক্ষায় থাকা শম্ভুনাথ পাল নামে এক গুরুতর অসুস্থ রোগী জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে পড়ে যান। স্বজনরা খবরের কাগজ দিয়ে বাতাস করে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, লিফটে অতিরিক্ত ভিড় ও দীর্ঘ লাইনের কারণে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একাধিক রোগী জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতেও দেরি হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ৮৪০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। অথচ অনুমোদিত ৭৪০ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৩২২ জন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ ও অপ্রতুল জনবল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
লিফটের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ১২টি লিফটের মধ্যে ৫টি নষ্ট থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। তবে লিফট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণপূর্ত বিভাগ ‘ওটিজ’ ও ‘ক্রিয়েটিভ’ নামের দুটি কোম্পানির মাধ্যমে লিফটগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করে। পাশাপাশি ৭৪০ জনের অনুমোদিত জনবলের বিপরীতে ৩২২ জন কর্মরত থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে।
তবে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভুরাম পাল। তিনি বলেন, ১২টি লিফটের মধ্যে ৭টি সচল এবং ৫টি বিকল রয়েছে। নষ্ট লিফটগুলোর প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ টাঙ্গাইলে পাওয়া যায় না, ঢাকা থেকে আনতে হয়।
শম্ভুরাম পাল বলেন, লিফট সরবরাহকারী কোম্পানিকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত বাকি ৫টি লিফট সচল করার কার্যক্রম চলছে। তিনি জানান, ১২টি লিফটের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ বাজেট ১২ লাখ টাকা, যা প্রয়োজনের তুলনায় কম।