নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

আপলোড সময় : ৩০-০৯-২০২৬ ০৯:৫২:২৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-০৯-২০২৬ ০৯:৫২:২৩ পূর্বাহ্ন

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন শেখ মোহাম্মদ।

নেতানিয়াহুকে তিনি যুদ্ধাপরাধী মনে করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই।’ গাজায় যা করা হয়েছে, তা যুদ্ধাপরাধ এবং এর জন্য যারা দায়ী, তারা যুদ্ধাপরাধী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ মোহাম্মদ বলেন, গাজার হাসপাতাল ও স্কুলে হামলা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের পক্ষে যত যুক্তি বা ব্যাখ্যাই দেওয়া হোক না কেন, কোনো কিছুই তা ন্যায্যতা দিতে পারে না।

নেতানিয়াহু নিজের ও তার সরকারের কর্মকাণ্ড থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই রাজনৈতিকভাবে কাতারকে আক্রমণ করছেন বলেও অভিযোগ করেন শেখ মোহাম্মদ।

২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ইসরাইলের হামলারও সমালোচনা করেন তিনি। ওই হামলায় হামাসের কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। সে সময় গাজা যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছিল কাতার। হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য ও কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন বলে কাতারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

শেখ মোহাম্মদ বলেন, কাতার যখন মধ্যস্থতা করছিল, তখনই ইসরাইল দেশটির ওপর হামলা চালিয়েছে। মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের ওপর এ ধরনের হামলাকে তিনি নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, নেতানিয়াহু সীমা অতিক্রম করেছেন।

তবে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও কাতার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দেবে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগই অগ্রগতির সবচেয়ে কার্যকর পথ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে কাতার দুই পক্ষকেই সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও জানান শেখ মোহাম্মদ।

আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেন তিনি। এগুলো হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং ইরান ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা।

শেখ মোহাম্মদ বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে সংলাপ, পারস্পরিক হস্তক্ষেপ না করা, আগ্রাসন থেকে বিরত থাকা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিকে মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, দোহা মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে। সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে—এ নিয়ে কাতার উদ্বিগ্ন বলেও জানান তিনি।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০