৩ মাসের বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা, হিসাব শুরু কাল
নতুন পে স্কেল কার্যকরের পর সরকারি চাকরিজীবীদের এখন মূল আগ্রহ বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ নিয়ে। নতুন কাঠামোতে বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন শেষ হলে প্রায় তিন মাসের বকেয়া একসঙ্গে পাবেন তারা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণের কাজ শুরু হবে। এ কার্যক্রম ২০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করতে বলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে আইবাস প্লাস প্লাসের পে-ফিক্সেশন মডিউলে। এ জন্য চাকরিজীবীদের পোর্টালে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। প্রথমে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতন দিতে হবে। পাশাপাশি আগের বেতন নির্ধারণের তথ্যও যাচাই করতে হবে।
‘নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, ৭০ শতাংশ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এবং এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে।’
— জি বাংলা ডেস্ক
নতুন কাঠামোতে কার মূল বেতন কত হবে, তা পে-ফিক্সেশনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। নতুন ও আগের মূল বেতনের পার্থক্য এবং বেতন কার্যকরের তারিখ বিবেচনায় নিয়ে বকেয়ার হিসাব করা হবে। ফলে সবার বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না। গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতন এবং কার্যকর তারিখের ওপর বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে।
আরও পড়ুন
বন্ধ গার্মেন্টস কারখানা শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অর্থ বিভাগের সূত্র বলছে, পে-ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর প্রায় তিন মাসের বকেয়া একসঙ্গে দেওয়া হবে। তবে বেতন নির্ধারণের সময় আগের পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং বেতন নির্ধারণের ইতিহাসও সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে।
মূল বিষয়গুলি
- নতুন পে স্কেল কার্যকরের পর সরকারি চাকরিজীবীদের এখন মূল আগ্রহ বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ নিয়ে।
- সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণের কাজ শুরু হবে।
- সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে আইবাস প্লাস প্লাসের পে-ফিক্সেশন মডিউলে।
- নতুন কাঠামোতে কার মূল বেতন কত হবে, তা পে-ফিক্সেশনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
কারও পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট তথ্য দিতে হবে। এসব তথ্যের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথিও প্রস্তুত রাখতে হবে। বিশেষ করে নাম, এনআইডি, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও বেতনসংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে বেতন নির্ধারণে জটিলতা হতে পারে। এ জন্য আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরও প্রয়োজন হবে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর ১১ বছরের মাথায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে মূল বেতন ছিল, তার ভিত্তিতে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ করা হবে। নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, ৭০ শতাংশ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এবং এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে দুই দফায় মূল বেতনের ৭০ শতাংশ দেওয়ার জন্য ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
উচ্চতর গ্রেডে হিসাব নিয়ে জটিলতা
নতুন বেতন আদেশ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে আট বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাবেন। প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর চাকরি করলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে আগের বেতনকাঠামোয় টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা। এসব বিষয় নিরসনে কাজ চলছে।
অর্থ বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, আগের বেতনকাঠামোয় একই পদে দুই বা ততোধিক সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন বেতনকাঠামোয় ওই পদে আর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে একটিমাত্র উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্তির পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।