পলাতক অবস্থায় মৃত্যু, সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন নিয়ে যা জানা গেল
জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীকে মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে দাফন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা কবর খুঁড়ে পিরোজপুরের বাড়িতে তাঁর দাফন সম্পন্ন করেন। এ সময় পুলিশ নিরাপত্তা দেয়।
রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থানকালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে মানিক পশারীর লাশ সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হলে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন তাঁর স্বজনেরা। পরে পুলিশের সহায়তায় লাশটি সেখান থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়।
‘জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীকে মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে দাফন করা হয়েছে।’
— জি বাংলা ডেস্ক
সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে লাশটি রাখে।
আরও পড়ুন
শ্রমিক-পুলিশ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-সংঘর্ষে থমথমে মিরপুর
রাত ১টার দিকে পুলিশ ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় লাশ বাড়িতে পৌঁছায়। পরে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন সম্পন্ন করেন। এ সময় কয়েকজন এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
মূল বিষয়গুলি
- জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীকে মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর গভীর …
- রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
- এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থানকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
- সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
মানিক পশারীর বোন বলেন, ‘আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ধস্তাধস্তি হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পর মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।’
পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে জেলা জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা কোনো বাধা সৃষ্টি করেননি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সদর থানা পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মানিক পশারীর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার কাছে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস অসুস্থ থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।