কারাবন্দির পেট থেকে বের হলো অর্ধশতাধিক গ্যাস লাইটার, নেইল কাটার ও স্ক্রু
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হাসমত আলীর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে তাঁর পেট থেকে অর্ধশতাধিক গ্যাস লাইটার, কয়েকটি নেইল কাটার ও স্ক্রুসহ বিভিন্ন বস্তু বের করা হয়েছে।
কারা সূত্র জানায়, অস্ত্রোপচারের পর হাসমত শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে তাঁকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এর আগে তীব্র পেটব্যথার কারণে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হাসমতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে এক্স-রে পরীক্ষায় তাঁর পেটে বিভিন্ন ধাতব ও অন্যান্য বস্তু থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
‘বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে তাঁর পেট থেকে অর্ধশতাধিক গ্যাস লাইটার, কয়েকটি নেইল কাটার ও স্ক্রুসহ বিভিন্ন বস্তু বের করা হয়েছে।’
— জি বাংলা ডেস্ক
সূত্র জানায়, গত তিন মাসে হাসমত কারাগারের স্ক্রু, নেইল কাটার, গ্যাস লাইটার, ইটের টুকরা, মাটি, গাছের পাতা ও লোহার তারসহ বিভিন্ন বস্তু গিলে ফেলেছেন। কারাগারে যাওয়ার আগে বাড়িতে থাকাকালেও তিনি পোকামাকড় খেতেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন
টিভিতে আজকের খেলার সূচি
এসব বস্তু খাওয়ার কারণে তাঁর পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। একপর্যায়ে পানি ছাড়া অন্য কিছু খেলেই তিনি বমি করতে থাকেন।
মূল বিষয়গুলি
- আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হাসমত আলীর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
- কারা সূত্র জানায়, অস্ত্রোপচারের পর হাসমত শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন।
- এর আগে তীব্র পেটব্যথার কারণে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হাসমতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
- সূত্র জানায়, গত তিন মাসে হাসমত কারাগারের স্ক্রু, নেইল কাটার, গ্যাস লাইটার, ইটের টুকরা, মাটি, গাছের পাতা ও লোহার তারসহ বিভিন্ন বস্তু গিলে ফেলেছেন।
এ বিষয়ে হাসমত বলেছেন, তাঁর আর বাঁচতে ইচ্ছে করে না বলেই তিনি এসব বস্তু খেতেন।
৪৪ বছর বয়সী হাসমতের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার রামদেবপুর গ্রামে। বাবাকে হত্যার দায়ে আদালত তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন। তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি ছিলেন। কারাগারে সুইপারের কাজ করতেন তিনি। এ কারণে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও শৌচাগারে যাওয়ার সুযোগ ছিল তাঁর। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেই বিভিন্ন বস্তু সংগ্রহ করে গিলে ফেলেছেন তিনি।
কারা সূত্র জানায়, বাবাকে হত্যার ঘটনার পর থেকেই হাসমত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এর আগেও তাঁর মধ্যে মানসিক সমস্যার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। কারা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে তাঁর চিকিৎসাও করানো হয়। সরকারি নথিতে তাঁর রোগের নাম লেখা হয়েছে ‘Acute Abdominal with Epigastric Mass’।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ঢাকার বাইরের কারাগার থেকে বন্দিদের সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হলে ভর্তি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সম্পন্ন করে। সে অনুযায়ী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাসমতের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন এ কারাগারের কারারক্ষীরা।
কারা সূত্র আরও জানায়, চিকিৎসকেরা হাসমতের বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা হাসপাতালে এসে তাঁর খোঁজখবর নিতে আগ্রহ দেখাননি। ফলে অস্ত্রোপচারের অনুমতি ও ব্যয়ের দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষকে নিতে হয়। পরে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বুধবার তাঁর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।