হাম-ডেঙ্গুর সঙ্গে মৌসুমি ‘ফ্লু’, উপসর্গ বুঝে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বর, ডেঙ্গু ও সংক্রামক রোগ হাম নিয়ে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। এর সঙ্গে মৌসুমি ফ্লু ও অন্যান্য সংক্রমণ যুক্ত হওয়ায় অনেক হাসপাতালেই শয্যা ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছর ডেঙ্গুতে ১৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৩ হাজার ৬২৭ জন। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৬৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন ছয়জন।
অন্যদিকে, ১৫ মার্চ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হাম মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৬৩। এ সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৫ এবং নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৬৪৬। হাসপাতালগুলোতে সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ জন।
‘সম্প্রতি চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও কক্সবাজারে চিকিৎসাধীন ২০০ শিশুকে নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশের হাম সংক্রমণের সঙ্গে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে অবস্থানের যোগসূত্র ছিল।’
— জি বাংলা ডেস্ক
হাসপাতালে বাড়ছে চাপ
আরও পড়ুন
নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, নেতাকর্মীদের সঙ্গে হেঁটে র্যালি করলেন তারেক রহমান
হাসপাতালগুলোতে একই সময়ে ডেঙ্গু, হাম ও অন্যান্য জ্বরের রোগী চিকিৎসা নেওয়ায় শয্যা ও চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা সংক্রামক হাম রোগীদের সাধারণ ওয়ার্ডে অন্য রোগীদের সঙ্গে রাখার ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কথা বলছেন।
মূল বিষয়গুলি
- রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বর, ডেঙ্গু ও সংক্রামক রোগ হাম নিয়ে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছর ডেঙ্গুতে ১৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
- অন্যদিকে, ১৫ মার্চ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হাম মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৬৩।
- হাসপাতালগুলোতে একই সময়ে ডেঙ্গু, হাম ও অন্যান্য জ্বরের রোগী চিকিৎসা নেওয়ায় শয্যা ও চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও কক্সবাজারে চিকিৎসাধীন ২০০ শিশুকে নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশের হাম সংক্রমণের সঙ্গে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে অবস্থানের যোগসূত্র ছিল। গবেষকেরা হাসপাতালগুলোতে দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ, আলাদা রাখা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
গবেষণাটিতে আরও দেখা গেছে, গুরুতর অপুষ্টির সঙ্গে মারাত্মক হামের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। তবে এটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা হওয়ায় কোনো কারণ-ফল সম্পর্ক সরাসরি প্রমাণ করে না।
ডেঙ্গু নিয়ে সতর্কতা
ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জ্বরের পাশাপাশি শরীর ব্যথা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ফলে জ্বর হলে রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো জরুরি।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বরের চিকিৎসায় নিজের মতো করে ওষুধ বা স্যালাইন নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা প্রয়োজন।
২৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিশেষ টিকাদান
হাম মোকাবিলায় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে সরকার। ‘ইনটেনসিফাইড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ নামের এ কার্যক্রম চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
এই কর্মসূচির আওতায় হাম-রুবেলা টিকাদান থেকে বাদ পড়া ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনা হবে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচিতে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় স্যালাইনের ঘাটতি নেই। তিনি প্রয়োজন ছাড়া ঢাকার বড় হাসপাতালগুলোতে ভিড় না করে উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের পরামর্শ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সংক্রামক রোগীদের যথাযথভাবে আলাদা রাখা এবং শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।