মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামে সংঘর্ষের প্রস্তুতি, ঠেকাল সেনাবাহিনী
কক্সবাজারের টেকনাফে পূর্ববিরোধের জেরে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন বাহারছড়া ইউনিয়নের মনখালী ও শামলাপুর এলাকার বাসিন্দারা। মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে সেনাবাহিনীর দ্রুত তৎপরতা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সেনাবাহিনীর একটি দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিরোধের সূত্রপাত গত ২৫ অক্টোবর সকালে। ওই দিন সকাল ৯টার দিকে শামলাপুরের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার লাইনম্যানের সঙ্গে মনখালীর এক বাসিন্দার কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় ওই বাসিন্দাকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে।
‘বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সহযোগিতায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন ব্যক্তিরাও দুই পক্ষকে শান্ত করার উদ্যোগ নেন।’ স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সামান্য বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই এলাকার মানুষের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক।’
— জি বাংলা ডেস্ক
এর জেরে পরদিন ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার থেকে শামলাপুরে ফেরার পথে মনখালীর কয়েকজন বাসিন্দা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও এর যাত্রীদের আটকে দেন। পরে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সহযোগিতা এবং স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে আটকে রাখা অটোরিকশাটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
মৌলভীবাজার পৌর নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মহিউদ্দিনc
এরপরও বিরোধের রেশ কাটেনি। সর্বশেষ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শামলাপুর বাজারে মনখালী ও শামলাপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়।
মূল বিষয়গুলি
- কক্সবাজারের টেকনাফে পূর্ববিরোধের জেরে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন বাহারছড়া ইউনিয়নের মনখালী ও শামলাপুর এলাকার বাসিন্দারা।
- মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
- স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিরোধের সূত্রপাত গত ২৫ অক্টোবর সকালে।
- এর জেরে পরদিন ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার থেকে শামলাপুরে ফেরার পথে মনখালীর কয়েকজন বাসিন্দা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও এর যাত্রীদের আটকে দেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মনখালীর বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন ও শামলাপুরের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য তৈয়বের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর পর সালাহ উদ্দিন মনখালী এলাকায় গিয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দুই এলাকার মধ্যে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এ সময় কয়েকজনের হাতে দা, কোদাল ও লাঠিসোঁটাও দেখা যায়। পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে বড় ডেইলে অবস্থানরত সেনাসদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পাশাপাশি বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সহযোগিতায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন ব্যক্তিরা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেন।
এ বিষয়ে বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, ‘পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বড় ডেইলে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিষয়টি জানাই। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সহযোগিতায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন ব্যক্তিরাও দুই পক্ষকে শান্ত করার উদ্যোগ নেন।’
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সামান্য বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই এলাকার মানুষের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান এবং উত্তেজনা ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।